পাবনা প্রতিনিধি:
আটঘরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলজুড়ে এ বছর ব্যাপকভাবে পাট চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সবুজ পাটের সমারোহে পুরো এলাকা এখন এক সবুজের রাজ্যে রূপ নিয়েছে। ফলনের সম্ভাবনা অনুকূলে থাকায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুতার বিল, বিল চতরা, গারুলিয়া বিল, গম্বিল, গাব বিল, ধলেশ্বর বিল ও চকধলেশ্বর বিলসহ দেবোত্তর, একদন্ত, চাঁদভা ও লক্ষ্মীপুর এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যতদূর চোখ যায়, শুধুই সবুজ পাটক্ষেত। বাতাসে দুলতে থাকা পাটগাছ যেন পুরো এলাকাকে ঘিরে সৃষ্টি করেছে মনোমুগ্ধকর গ্রামীণ সৌন্দর্য। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে পাটের গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হয়েছে। রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকেরা স্বস্তিতে আছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি বিলাঞ্চলের মাঠেই পাটের সবুজ গাছ একটানা বিস্তৃত হয়ে আছে। কৃষকেরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুতার বিলসহ আশপাশের বিলাঞ্চলে পাটের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষক রবিউল ইসলাম ৬ বিঘা, হাসান ৭ বিঘা, রেজাউল ৫ বিঘা, আইয়ুব ৫ বিঘা, জিয়ার ৪ বিঘা, আপাল ৪ বিঘা, রিজাউল ৩ বিঘা এবং আলম সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এছাড়াও শতাধিক কৃষক নিজ নিজ জমিতে পাট আবাদ করেছেন। তবে কৃষকদের মতে, ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট এখনো তুলনামূলক লাভজনক হলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারদরের অস্থিরতা তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আটঘরিয়া উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলায় ও-৯৮৯৭ (তোষা), ও-৭২ (রবি-১) এবং জেআরও-৫২৪ জাতের পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক আবাদকৃত জমির মধ্যে আটঘরিয়া পৌরসভায় ৯০ হেক্টর, মাজপাড়া ইউনিয়নে ৩৮৫ হেক্টর, চাঁদভা ইউনিয়নে ৫৬০ হেক্টর, দেবোত্তর ইউনিয়নে ১ হাজার ৪২০ হেক্টর এবং একদন্ত ইউনিয়নে ২ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
এক বিঘা জমিতে পাট চাষে সাধারণত ৩ থেকে ৪ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বীজ, সার, জমি প্রস্তুুত, সেচ ও পরিচর্যাসহ মোট খরচ প্রায় ৭ হাজার থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, সুতার বিলসহ উপজেলার বিভিন্ন বিলাঞ্চলে পাটের অবস্থা অত্যন্ত ভালো। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং আগামীতে পাট চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে। কৃষকদের প্রত্যাশাসরকারি সহযোগিতা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সোনালি আঁশ পাট আবারও দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share
সাম্প্রতিক খবর

