শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬

অবৈধ মাটিকাটাকে কেন্দ্র করে রাতভর চিরুনি অভিযান

Share


জয় আহমেদ জনি: নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দুঃসাহসিক অভিযানে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোড়ন। দিনভর টানা অভিযানে ২৪টি ব্যাটারি জব্দের ঘটনায় শুধু অভিযান নয়—উন্মোচিত হয়েছে এক বিস্তৃত অবৈধ বাণিজ্যের চিত্র, যা দীর্ঘদিন ধরে নীরবে গ্রাস করছিল কৃষিজমি ও পরিবেশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৬টি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেক স্থানে তড়িঘড়ি করে সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চালায় সংশ্লিষ্ট চক্র। তবে শেষরক্ষা হয়নি—প্রশাসনের চিরুনি অভিযানে জব্দ হয় অবৈধ মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ২৪টি ব্যাটারি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফসলি জমি, খাল-বিল এমনকি গ্রামীণ সড়কের পাশ থেকেও নির্বিচারে মাটি কেটে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে ট্রাক ও মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় তাদের জমি এখন গর্তে পরিণত হয়েছে, উৎপাদন কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমাদের জমি শেষ করে দিচ্ছে। বলার কেউ ছিল না। আজ প্রশাসন এসে অন্তত বুঝিয়েছে—আমরা একা নই।

অভিযান পরিচালনাকারী ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, অবৈধ মাটি কাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান চলবে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আইন অমান্য করে যারা পরিবেশ ও কৃষিকে ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

তবে প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান নয়, এর পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। নইলে সাময়িক অভিযান থামলেও ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে ভূ-প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে জলাবদ্ধতা, কমছে কৃষি উৎপাদন—যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।
সিংড়ার মাটি আজ শুধু মাটি নয়—এটি এক নীরব আর্তনাদ। প্রশাসনের এই অভিযানে আশার আলো জ্বললেও, প্রকৃত পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা যাবে। এখন সময়—কঠোরতার, জবাবদিহিতার এবং নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন