পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
জরুরী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসের বিরুদ্ধে। উপজেলা সদর থেকে সিরাজগঞ্জ রোড হয়ে ঢাকা যাতায়াতের এই সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহার হচ্ছে। এতে এলজিইডি’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদর থেকে সিরাজগঞ্জ রোড হয়ে ঢাকা যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয় এই সড়ক। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের ভাঙ্গুড়া উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ১৮ কিলোমিটার সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দু’বছর আগে সড়কের অর্ধেক অংশে সংস্কারের জন্য টেন্ডার হলেও ঠিকাদার কাজ করেনি। এদিকে ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে শরৎনগর বাজার থেকে নৌবাড়ীয়া চৌরাস্তা মোড় পর্যন্ত অবস্থা আরো বেহাল। এই তিন কিলোমিটার সড়ক শত শত খানাখন্দে ভরা। অনেক খানাখন্দের গভীরতা এক ফুটেরও বেশি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে এই সড়কে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান ও উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে জরুরী ভিত্তিতে এই তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তিন দিন ধরে সড়কের গভীর ভাঙ্গা স্থানগুলোতে ইট ফেলে যাতায়াতের উপযোগী করার কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রকৌশল অফিস। তবে এতে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তে পানি জমে আছে। এর মধ্যে ফেলা হচ্ছে ইট ও রাবিশ। এসব ইট দেখতে অনেকটা পোড়া মাটির মতো। ছোট ছোট গাড়ি যাতায়াতেই ইট ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। কোন স্থানে এই গুঁড়ো কাঁদায় পরিণত হচ্ছে। এরইমধ্যে অন্তত ৫০ ট্রলি এমন নিম্নমানের ইট ফেলা হয়েছে। সড়কে এমন নিম্নমানের ইট ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি গত বুধবার চাটমোহর উপজেলার বাসিন্দা ও এলজিইডি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মমিন মুজিবুল হক সমাজী এই সড়কে যাতায়াতের সময় নিম্নমানের ইট দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। যাতে তিনি লেখেন ‘কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই শুরু হলো ভাংগুড়া-নওগাঁ সড়কের কাজ। এই মে ২০২৬ হচ্ছে শেষ বারের মত ঠিকাদারের সময়সীমা। যার মধ্যে কোনভাবেই সমাপ্ত হবে না এই কাজ। অর্থাৎ সহজে মুক্তি নাই!!’ তিনি আরো লেখেন, সরকারি অর্থের খাত যাইই হোক। স্পেসিফিকেশন বর্হিভুত মালামাল সড়কে ব্যবহারের সুযোগ নাই। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ওই সড়ক সংস্কারের জন্য আলাদা কোন বরাদ্দ নেই। বেহাল দশার কারণে জরুরী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এই কাজ করা হচ্ছে। এরপরেও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা যাবে না। বিষয়টি দেখা হবে।

Share
সাম্প্রতিক খবর

