শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম শীর্ষ খাত চামড়া শিল্প

Share




আই ওয়ান টিভি ডেস্ক:

১০ জুলাই শুক্রবার, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই অন্যতম প্রধান সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হলো চামড়া শিল্প। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এ দেশের চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের (যেমন: জুতো, ব্যাগ, বেল্ট, জ্যাকেট) বিশাল চাহিদা রয়েছে। তবে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত কিছু সংকটের কারণে খাতটি এখনো তার পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে পারছে না।কোরবানির ঈদ ও কাঁচামাল: বাংলাদেশে চামড়া শিল্পের মূল কাঁচামাল বা বার্ষিক চাহিদার প্রায় অর্ধেকের বেশি আসে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়।আসলে খুব দুঃখজনক ব্যাপার। আমাদের দেশের চামড়া কেউ এটা নিতে চায়না ২ লক্ষ টাকা দামের গরু চামড়া ২০০-৩০০ টাকা ৪০০ টাকার উপরে কেউ নিতে চায় না অথচ এক জোড়া জুতা কিনতে গেলে ৫০০০ হাজার ২ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়।খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।চামড়া শিল্পকে উন্নতকরণ করতে হবে।চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকটসমূহ বর্তমানে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পরিবেশ দূষণ ও সিইটিপি, সমস্যা: হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হলেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এখনো পুরোপুরি কার্যকর বা আন্তর্জাতিক মানের না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ,বাংলাদেশি ট্যানারিগুলো সরাসরি উন্নত বিশ্বের নামী ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ভালো দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছে না।ফলে কম মূল্যে চামড়া রপ্তানি করতে হচ্ছে।কাঁচা চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়া: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঠ পর্যায়ে কাঁচা চামড়ার দাম মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যা মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের লোকসানের মুখে ফেলছে।চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এই খাতের সম্ভাবনা কমেনি। বাংলাদেশের পশুর চামড়ার গুণগত মান (বিশেষ করে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগলের চামড়া) বিশ্বমানের। সরকার যদি এই খাতকে সঠিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের বিলিয়ন ডলারের বাজারে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করতে পারে।চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং একে আরও লাভজনক করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:সিইটিপি সম্পূর্ণ কার্যকর করা: সাভার চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারকে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।এলডব্লিউজি সনদ অর্জন: দেশীয় ট্যানারিগুলো যাতে সার্টিফিকেশন পায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার করা।মূল্য নির্ধারণ ও মনিটরিং: কাঁচা চামড়ার সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং তা মাঠ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে সনাতন পদ্ধতির বদলে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।চামড়া শিল্প বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং শতভাগ দেশীয় কাঁচামালনির্ভর খাত।
পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই শিল্প দেশের অর্থনীতিকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন