শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬

শিম ফুলে ছেয়ে গেছে খেত, ভালো ফলনের প্রত্যাশায় কৃষক

Share



উজ্জল হোসেন : পাবনা প্রতিনিধি
সাড়ে তিন বিঘা জমি ৯ লাখ টাকা দিয়ে কট নিয়ে শিম চাষ শুরু করেন কৃষক শরিফুল। বর্তমানে তার ক্ষেতে যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের গাছে গাছে রঙিন ফুলে ভরে গেছে মাঠ। বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। দামও ভালো পাচ্ছেন। প্রতি কেজি আগাম শিম বিক্রি করছেন ২৫০-২৬০ টাকা। উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন যেন এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ
দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে সাদা ফুলের চাদর বিছিয়ে আছে। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন শিম ক্ষেতে। কৃষকদের চোখেও এখন ভালো ফলন ও লাভের স্বপ্ন। মঙ্গলবার সরেজমিনে বারইপাড়া গ্রামের শিম ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সারিবদ্ধভাবে ছড়িয়ে রয়েছে আগাম হাইব্রিড শিমের লতা। মাচাজুড়ে ফুটে থাকা ফুলের পাশাপাশি অনেক গাছে কচি শিমও ধরেছে। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ গাছে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের আবাদ করেছেন। এ জমি চাষাবাদের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকা দিয়ে কট (বন্ধক) রাখা হয়েছে। জমি প্রস্তুুত, মাচা নির্মাণ, সেচ, সার ও পরিচর্যাসহ প্রতিদিনই ক্ষেতে সময় দিতে হচ্ছে। তবে গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, এখন গাছে প্রচুর ফুল এসেছে। ইতোমধ্যে শিম সংগ্রহও শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই মণ শিম তুলছেন। বাজারে প্রতি কেজি শিম ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ঠিক থাকলে সব ধরনের উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছি। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগাম জাতের শিম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রতি বছরই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম হাইব্রিড শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এ চাষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বারইপাড়ার এই শিমক্ষেত এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সকাল ও বিকেলে অনেকেই ফুলে ভরা শিমক্ষেত দেখতে আসছেন। কেউ স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ফোনে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন। ফলে শিমক্ষেতটি স্থানীয়ভাবে এক ধরনের দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, পাবনায় শিম সাগর নামে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক সুনাম রয়েছে। আগাম জাতের শিমের আবাদ শুরু হয়েছিলো। সেসব শিম গাছ ফুলে ভরে গিয়ে শিম উঠতে শুরু হয়ে গেছে। দেশের সবচেয়ে বেশি শিমের আবাদ হয় এ উপজেলায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাটবাজারে আগাম জাতের যে শিম পাওয়া যায় সেগুলো আটঘরিয়া ও আশপাশের উপজেলা গুলোতেও উৎপাদন হয়। সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করে কীভাবে আগাম শিম উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন