কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
সীমান্তে সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সর্বদা তৎপর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে অবৈধ পুশ-ইন করার একটি বড় প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। দীর্ঘ চার দিন সীমান্তে অচলাবস্থা এর পর অবশেষে বিজিবি এর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং দৃঢ় অবস্থানের কারণে পুশ-ইনকৃত ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ভোর ০৫:০০ ঘটিকায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৪৮/৩-এস এর নিকট প্রতিপক্ষ ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর রানীনগর ক্যাম্প কর্তৃক ১২ জন (পুরুষ-০৪, মহিলা-০৪ এবং শিশু-০৪) অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি’র গোয়েন্দা তথ্য ও সীমান্তে নিয়োজিত টহল দলের কঠোর সতর্ক অবস্থানের ফলে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাগপুর বিওপির বিজিবি টহল দল স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় বিএসএফ-এর এই অবৈধ পুশ-ইন প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করে।
ঘটনার পর কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়কের সার্বিক সমন্বয়, দূরদর্শিতা ও সফল প্রচেষ্টায় গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে বিএসএফ-এর এই ধরনের একতরফা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
পুশ-ইন প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর, উক্ত ১২ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিবর্গ গত ১২ জুন থেকে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত (০৪ দিন) সীমান্তের শূন্য রেখা হতে ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে অবস্থান করছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি উক্ত এলাকায় টহল তৎপরতা জোরদার করে এবং কঠোর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করে।
বিজিবি’র এই অনড় অবস্থানের মুখে, আজ ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ প্রতিপক্ষ ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর ডেপুটি কমান্ডেন্ট (উপ-অধিনায়ক) এবং রানীনগর বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার সীমান্তের শূন্য রেখা বরাবর একটি ‘স্পট মিটিং’-এর জন্য বিজিবিকে আহ্বান জানান। স্পট মিটিং চলাকালে বিএসএফ-এর ডেপুটি কমান্ডেন্ট দাবি করেন যে, তাদের কাঁটাতারের বেড়ার গেট সর্বদা বন্ধ থাকে এবং তারা এ ধরনের কোনো কার্যক্রমে জড়িত নয়।এর জবাবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “উক্ত ব্যক্তিরা যেকোনো গেট ব্যবহার করে আসুক না কেন, সেটি মূল বিষয় নয়; প্রকৃত বিষয় হলো তারা ভারত হতে এসেছে এবং বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।” ফলশ্রুতিতে, বিজিবি তাদেরকে অবিলম্বে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরালো অনুরোধ জানায়।
বিজিবি’র যৌক্তিক ও আইনি অবস্থানের প্রেক্ষিতে, আজ ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১১০০ ঘটিকায় প্রতিপক্ষ ১১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডেন্ট, রানীনগর বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালকের উপস্থিতিতে বিএসএফ উল্লিখিত ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি-বিএসএফ উভয় পক্ষ শূন্য রেখা ত্যাগ করে নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরে প্রত্যাবর্তন করে। বর্তমানে উক্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি’র নিয়মিত সীমান্ত টহল কার্যক্রম অত্যন্ত জোরালোভাবে চলমান রয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Share
সাম্প্রতিক খবর

