মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে: জামায়াত

Share





নিজস্ব সংবাদদাতা:

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে এক চুল পরিমাণও না সরার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতির সাথে বেইমানি করব না, প্রয়োজনে আবারও কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


এছাড়া এ মহাসমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল (অব.) ড.অলী আহমদ বীর বিক্রম (সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি)মাওলানা মামুনুল হক, আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাধারণ সম্পাদক, আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক , ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি,অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি,মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ (আমির, খেলাফত মজলিস,মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী আমির, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন,রাশেদ প্রধান সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা সহ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

রংপুরে মহাসমাবেশে বিরোধী দলের নেতা কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন। গণভোটকে কেন্দ্র করে চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিভিন্নভাবে আমাদের গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাব এবং এই অবস্থান থেকে এক চুলও সরব না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে সরকার গণভোটের পক্ষে অবস্থানের কথা বললেও পরে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটেছে, যা জনগণের রায়ের অবমাননা।

প্রতিশ্রুতি নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই জামায়াত আমীর উল্লেখ করেন, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিল। তবে দীর্ঘসূত্রিতা ও শুধু মুখের আশ্বাসে জনগণ আর সন্তুষ্ট নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন বা আন্দোলনের আগে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও’ স্লোগান দিলেই হবে না, বরং তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষের অধিকার পূরণে সরকারকে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন,উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে চরম উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য উত্তরবঙ্গকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বন্যা ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের স্থায়ী সমাধানের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

সীমান্ত হত্যা এবং পুশইন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, দেশের একটি বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দেওয়া হবে। পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, জনগণ এবং জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের অর্জনকে যারা হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের জন্য জনগণের turbulent tide বা অশান্ত ঢেউই যথেষ্ট। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেন, জনগণ অধিকারের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না।

উল্লেখ্য,৪ দফা দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে বৈরী আবহাওয়া ও অঝোরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেন।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন