বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬

দুই মাসের শি*শুকে নির্যাতনের অভিযোগ: গ্রেপ্তার ৩, চাচি পলাতক

Share



নিজস্ব সংবাদদাতা:
নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনাটি গত ১১ জুন উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় ঘটে। প্রায় এক মাস পর ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপরই তদন্তে নামে মাধবদী থানা-পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মুচড়ে দেন। এ সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমের কাছে পাঠান। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুটির পা ভেঙে দেওয়ার দাবি করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে শিশুটির পা ভেঙেছে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়েছে, শিশুটির পা ভাঙেনি। ভিডিওতে শিশুটির কান্নার শব্দেও কিছুটা অসংগতি রয়েছে বলে মনে হয়েছে। পা ভেঙেছে নাকি মচকেছে, তা নিশ্চিত হতে শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

ওসি বলেন, শিশুটির প্রতি নিষ্ঠুরতা বা নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তবে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন।

পুলিশ জানায়, তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া ও শাশুড়ি শেফালী বেগমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত লতার মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়েছে, শিশুটির পা ভাঙেনি। কান্নার শব্দেও কিছুটা অসংগতি রয়েছে বলে মনে হয়েছে। আজ শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এতে পা ভেঙেছে কি না বা মচকেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি বলেন, শিশুটির প্রতি নিষ্ঠুরতা বা নির্যাতনের বিষয়টির ঘটনায় দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত লতার মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ওসি কামাল হোসেন বলেন, শিশুটির মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তাই বিষয়টি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখে মামলা নেওয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা-মা হয়তো পারিবারিক কারণে মামলা করতে চাননি বা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখেছেন।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন