মোঃ বাবুল হোসেন : জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ১৪ বছর বয়সী এক বাক-প্রতিবন্ধী কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচবিবি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শাইলট্টি বিন্নিপাড়া গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে তার বৃদ্ধ দাদি হালিমা বেগমের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। শফিকুল বিভিন্ন সময়ে ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এ ছাড়া তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিস্কুট, চকলেট, চিপসসহ বিভিন্ন জিনিস কিনে দিয়ে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শফিকুল ওই কিশোরীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। সে সময় কিশোরী তার দাদি হালিমা বেগমের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে শফিকুল ঘুমন্ত কিশোরীর পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিশোরী জেগে উঠলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় দাদি চিৎকার করলে শফিকুল তাকে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন ।
এ সময় পাশের ঘরে থাকা কিশোরীর ফুফু ফাইমা ও প্রতিবেশী বকুল এগিয়ে এলে তাদের ধাক্কা দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পরদিন ১৩ অক্টোবর স্থানীয় একটি কারিগরি কলেজে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
এ বিষয়ে শাইলট্টি কলেজের অধ্যক্ষ জাকারিয়া বলেন, উভয় পক্ষ নিজেরাই বৈঠকে বসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি।
কিশোরীর দাদি হালিমা বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


