মাহমুদুল হাবিব রিপন : গাইবান্ধা প্রতিনিধি
বিশ্বের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি প্রকল্প, অর্থের উৎস ও মন্দিরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার বিশ্বের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার গ্রেপ্তারের পর রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্প, অর্থের উৎস, মন্দির পরিচালনা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান।
এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে পলাশবাড়ী উপজেলার হেসেনপুর এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, ওই থানায় দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
রামমূর্তি প্রকল্প ঘিরে আলোচনায়
পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বড় আকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ধর্মীয় স্থাপনা ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর থেকেই জমির মালিকানা, অর্থের উৎস, অনুমোদন এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতাদের অভিযোগ, মন্দিরকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মন্দির উন্নয়ন থেকে বৃহৎ প্রকল্প
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের দিকে পুরোনো মন্দিরের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে বড় পরিসরে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
একপর্যায়ে সেখানে রামমূর্তি, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা, আশ্রম, অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রচার করা হয়। রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন।
উত্তেজনা ও নির্মাণ স্থগিত
রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মন্দির এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মন্দির প্রকল্প, বিভিন্ন অনুদান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অর্থের উৎস এবং ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তারের পর হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সিআইডির তদন্তে বের হবে তথ্য
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্তে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডিং মামলার প্রকৃত তথ্য, অর্থের উৎস এবং লেনদেনের বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, সিআইডি একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেপ্তারের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে-বিশাল এই ধর্মীয় প্রকল্পের অর্থের উৎস, ব্যবস্থাপনা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র।
অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হলেন রামমূর্তি নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস তরণী দাস

Share
সাম্প্রতিক খবর

