আটঘরিয়া প্রতিনিধি:
আটঘরিয়া উপজেলা-এর ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে এবার পাট চাষে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে কয়ড়াবাড়ি মাঠজুড়ে সবুজ পাট গাছে ভরে উঠেছে পুরো এলাকা, যা এখন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে পাটের চারা থেকে শুরু করে পরিপক্ব হয়ে ওঠা গাছ বাতাসে দুলছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে। কৃষকেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটের পরিচর্যায়। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ এবং সেচ ব্যবস্থাপনায় তারা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা সঠিক পরিচর্যা বজায় থাকলে এবার পাটের ভালো ফলন পাওয়া যাবে। কয়ড়াবাড়ি মাঠে এবারের মৌসুমে ব্যাপকভাবে পাট চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কৃষক রবিউল ইসলাম ৬ বিঘা, হাসান ৭ বিঘা, রেজাউল ৫ বিঘা, আইয়ুব ৫ বিঘা, জিয়ার ৪ বিঘা, আপাল ৪ বিঘা, রিজাউল ৩ বিঘা এবং আলম সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, পাট চাষ তুলনামূলকভাবে কম খরচে লাভজনক হওয়ায় তারা এ ফসলের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। পাশাপাশি বাজারে পাটের দাম কিছুটা ভালো থাকায় এবার কৃষকেরা বাড়তি আগ্রহ নিয়ে আবাদ করেছেন। কৃষক রিজাউল বলেন, “আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পাট পচানোর জন্য সুতার বিল সংলগ্ন নদী রয়েছে। এতে পাট জাগ দেওয়া সহজ হয় এবং আঁশের মানও ভালো পাওয়া যায়। এজন্য আমরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছি।” স্থানীয় কৃষকেরা আরও জানান, পাট কাটার পর একই জমিতে পেঁয়াজ, সরিষা, গমসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষ করা যায়। এতে বছরে একাধিক ফসল পাওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায় এবং তারা আর্থিকভাবে লাভবান হন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, “পাট আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সাথে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর জমি এবং কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে আটঘরিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে পাট চাষে ব্যাপক সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, রোগবালাই দমন এবং সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের মাধ্যমে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।” সবুজে মোড়া কয়ড়াবাড়ি মাঠ যেন এখন কৃষকের আশা-ভরসার প্রতিচ্ছবি। সোনালি আঁশের ভালো ফলনের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন এলাকার কৃষকেরা। আটঘরিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে এবছর ব্যাপক পাট চাষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Share
সাম্প্রতিক খবর

